মাঝিরহাট স্টেশনে ট্রেন চলছে না। ছবি: ভাস্কর মুখার্জিজ্বালানি তেল পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের তুলনায় রুপির অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে আজ সোমবার দেশজুড়ে বন্ধ্ পালিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি রাজ্যের বিভিন্ন শহরে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল এই বন্ধ্। কংগ্রেস, বামপন্থীসহ ২১টি বিরোধী দল এই বন্ধ্ ডাকে।
পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও বিহার রাজ্যে বন্ধের প্রভাব বেশি পড়ে। বিরোধী-শাসিত কর্ণাটকে স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ওডিশায়ও বন্ধ্ সফল। সফল হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাটেও। অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানা রাজ্যেও বন্ধের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া বহু শহরে দোকানপাট বন্ধ ছিল। ব্যাহত হয় ট্রেনসহ নানা যান চলাচল। বহু স্থানে পোড়ানো হয় মোদির কুশপুত্তলিকা। কংগ্রেস নেতারা বন্ধ্ শান্তিপূর্ণভাবে পালনের আবেদন জানালেও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে বন্ধ্-সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয়।
দিল্লির শাসক দল আম আদমি পার্টি কংগ্রসের ডাকা বন্ধে শামিল না হলেও বামদের পৃথক সমাবেশে হাজির হয়। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বন্ধের কারণগুলো সমর্থন করলেও রাজ্য অচল করার ডাককে সমর্থন করেনি। রাজ্যে তাই দলের পক্ষ থেকে বন্ধের সক্রিয় বিরোধিতা করা হয়। তবে দিল্লির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের ডাকা বিরোধীদের বিক্ষোভ-সমাবেশে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়কে পাঠায়। কর্ণাটক জয়ের পর এদিন বন্ধ্ উপলক্ষে আরও একবার বিরোধী ঐক্যের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করে কংগ্রেস।
পেট্রল-ডিজেলের দাম এক বছর ধরে বেড়েই চলেছে। পেট্রলের দাম মুম্বাইয়ে লিটারপ্রতি ৯০ রুপি ছুঁতে চলেছে, ডিজেল ৮০ রুপি। দিল্লিতে তা যথাক্রমে ৮১ ও ৭৩ রুপি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অন্য এক কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডলারের তুলনায় রুপির ক্রমাগত অবমূল্যায়ন। বিরোধীদের অভিযোগ, এত দিন ধরে মাত্রাছাড়া এই মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এবং জনগণের বোঝা কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার বিন্দুমাত্র উৎসাহী হয়নি। এমনকি দিল্লিতে দুই দিন ধরে চলা বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকেও এ সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনায় বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখা যায়নি। বরং দায় থেকে হাত ধুয়ে ফেলতে গতকাল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ ‘আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে’ দায়ী করে বোঝাতে চান এ ক্ষেত্রে সরকারের কিছুই করার নেই।
বিজেপির এই উদাসীনতাকেই আক্রমণ করেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। সোমবার সকালে তিনি সদলে যান রাজঘাটে। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে মালা দিয়ে মিছিল করে যান রামলীলা ময়দানে। সেখানে উপস্থিত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ইউপিএর চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী, এনসিপির নেতা শারদ পাওয়ার, লোকতান্ত্রিক জনতা দলের শরদ যাদবসহ ধর্মনিরপেক্ষ জনতা দল, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রতিনিধিরা।
গত রোববার বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে মোদি বলেন, কংগ্রেস ৪৮ বছরে যা করতে পারেনি, বিজেপি ৪৮ মাসে তা করে দেখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে রাহুল গতকাল রামলীলা ময়দানে বলেন, ‘উনি ঠিকই বলেছেন। ৭০ বছরে দেশে যে ঘৃণা দেখা যায়নি, মোদির সাড়ে চার বছরের শাসনে তা তীব্রতর হয়েছে। প্রতিটি মানুষ অন্যের সঙ্গে লড়াই করছে। গত ৭০ বছরে রুপি ৭২-এ নামেনি। অশোধিত তেল ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার হয়ে গেলেও কংগ্রেস আমলে পেট্রল-ডিজেলও কখনো এত মহার্ঘ্য হয়নি। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ৮০০ রুপি ছোঁয়নি। দেশ এমন দুর্বল হয়নি। জনতাও এত হতাশ হয়নি।’
About jaki
This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.

0 comments:
Post a Comment