মিজোরামে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহাওলা। ১০ আগস্ট, ২০১৮, আইজল, মিজোরাম। ছবি: সংগৃহীতচলতি বছরই উত্তর-পূর্ব ভারতের একমাত্র কংগ্রেস-শাসিত রাজ্য মিজোরামে বিধানসভার নির্বাচন। মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহাওলা ক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তবে এ রাজ্যে বিজেপির তৎপরতা বাড়ছে।
৪০ সদস্যের মিজোরাম বিধানসভার ৩২টি আসনই কংগ্রেসের। উত্তর-পূর্ব ভারতের আট রাজ্যের মধ্যে একমাত্র কংগ্রেস-শাসিত রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, রাজ্যের শান্তি ও উন্নয়নই তাঁদের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবে।
খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত রাজ্যটিতে হিন্দু বা মুসলিম জনসংখ্যা নগণ্য। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, রাজ্যের ৮৭ দশমিক ১৬ শতাংশ মানুষই খ্রিষ্টান। হিন্দুদের সংখ্যা ২ দশমিক ৭৫। আর মুসলিম আরও কম। মাত্র ১ দশমিক ৩৫।
তবে বৌদ্ধদের হার তুলনামূলকভাবে ভালো। ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ বৌদ্ধ রয়েছেন রাজ্যটিতে। মিজোরামে বৌদ্ধরাই দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠী।
পাহাড়ঘেরা ছোট্ট রাজ্যটিতে মোট পাঁচবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন লাল থানহাওলা। প্রথমবার ১৯৮৪ সালে। কিন্তু ১৯৮৬ সালে রাজ্যে শান্তি আনতে স্বেচ্ছায় মুখ্যমন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছিলেন তিনি।
২০০8 সাল থেকে টানা মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রিত্ব সামলাচ্ছেন লাল থানহাওলা। সেই সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসেরও তিনিই সভাপতি। উত্তর-পূর্ব ভারতে কংগ্রেসের একমাত্র দুর্গ ধরে রাখার ভারও তাঁর কাঁধেই।
২০০8 সাল থেকে টানা মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রিত্ব সামলাচ্ছেন লাল থানহাওলা। সেই সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসেরও তিনিই সভাপতি। উত্তর-পূর্ব ভারতে কংগ্রেসের একমাত্র দুর্গ ধরে রাখার ভারও তাঁর কাঁধেই।
গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কংগ্রেসই ক্ষমতায় আসবে। বিজেপি এবারও বিধানসভার কোনো আসনে জিততে পারবে না বলেই তাঁর বিশ্বাস।
তবে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল এমএনএফ লাল থানহাওলার বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রধান অভিযোগ দুর্নীতি।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করতে পারে এই আঞ্চলিক দল এমএনএফ। তাহলে বেকায়দায় পড়তে পারে কংগ্রেস।
অ-বিজেপি ও অ-কংগ্রেস ছোট ছোট আঞ্চলিক দলও মিজোরামে জোটবদ্ধ হচ্ছে। তাই ভোটের অঙ্ক এখনো পরিষ্কার নয়। তবে কংগ্রেস বেশ প্রস্তুত নিজেদের সরকার ধরে রাখতে।
মিজোরামের ভোটে অবশ্য চার্চগুলো বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাদের নির্দেশেই মূলত রাজ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়ে এসেছে এতকাল। অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয় দলগুলো। এবার কী হয়, সেটাও দেখার বিষয়।
টানা ১০ বছরের কংগ্রেস শাসনের অবসানের কৌশল নির্ধারণে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী পক্ষ। কংগ্রেসকেও চাঙা রেখে নিজের রাজ্য ধরে রাখতে মরিয়া লাল থানহাওলা। বাকিটা বলবে সময়।
About jaki
This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.

0 comments:
Post a Comment